নববর্ষের ভোজ

শুভ নববর্ষ আর মাত্র দু দিনের অপেক্ষা। গত বছরটি যেমন কোভিড আতঙ্কে কেটে গেলো, ঠিক তেমন ভাবেই নতুন বছরেও সেই আতঙ্ক রয়েই গেলো,উল্টে গত বছরের তুলনায় আতঙ্ক আরও বেশি বই কম না। তবুও আমাদের বাঙালী ভোজনবিলাসী মন ,ছোটো বেলায় পড়া কাজী নজরুল ইসলামের দুটো লাইন বেশ মেনে চলে –

” থাকবো না কো বদ্ধ ঘরে , দেখবো এবার জগতটাকে,
কেমন করে ঘুরছে মানুষ , যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে। “

যত যাই হয়ে যাক না কেনো এই দিন টা একটু বাইরে ঘোরা বা খাওয়া দাওয়া না করলে বড়ই নিরস লাগে। যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে সব ছোট বড় রেস্তোরাঁ যখন নববর্ষ স্পেশাল বাফেট নিয়ে হাজির তখন ই প্রায় কয়েক বছর ধরে বাঙালী ও ঢাকাই খাবার খাইয়ে আমাদের মন জয় করা ‘ দ্যা ভোজ কোম্পানি ‘, Sec – V ব্রাঞ্চ নিয়ে এসেছে নববর্ষ স্পেশাল A-La Carte মেনু। ১৫ ই এপ্রিল থেকে ১৮ ই এপ্রিল শুধুমাত্র এই মেনুর মধ্যেই খাবার পাওয়া যাবে। চলুন দেখে নিই সেই মেনুর বিশেষ কিছু ঝলক

শুরুতেই এই তপ্ত গরমে রেস্টুরেন্ট এ ঢুকে তো শরীর ঠাণ্ডা হলো কিন্তু মন ঠান্ডার উপায়??? আছে আছে মেনু তে শুরুতেই আম পান্না ও গন্ধরাজ ঘোল। এক চুমুকেই খানিক স্বস্তি।

স্টার্টার এ মন জয় করতে থাকছে গন্ধরাজ চিকেন ফ্রাই, ফিশ ফ্রাই ইত্যাদি। স্পেশালিটি হিসেবে আমি রেকমেন্ড করবো গন্ধরাজ চিকেন ফ্রাই টা নেওয়ার এটা সব জায়গায় পাওয়া ও যায় না গেলেও তার টেস্ট এর ধারে কাছে যায় না।

আমার মত গরম ভাত প্রিয় মানুষ হলে বলবো সঙ্গে নিয়ে নিন শিলে বাটা মুরগি অথবা লোটে, কচু পাতা ভাপা চিংড়ি আর সর্ষে ইলিশ ভাপা , যারা ইলিশ খান না তারা পাবদা ধনেপাতা ঝাল ও নিতে পারেন, খেতে খেতে আঙ্গুল চাটতে বাধ্য।

সঙ্গে যদি আবার পাওয়া যায় চিংড়ি মাছের মালাইকারি কিংবা ডাব চিংড়ি মন টা তখনই নেচে ওঠে। গরম ভাতের সঙ্গে এই দুটোর ও জুড়ি মেলা ভার।

যারা একটু পোলাও খেতে ভালোবাসেন তাদের জন্যেও থাকছে চিংড়ি পোলাও ও দম পোলাও সঙ্গে চিকেন কষা, মাটন কষা, মাটন ডাক বাংলো ইত্যাদি।

এই ডাক বাংলো নাম টার পেছনে একটা গল্প আছে। বলা ভালো এটা ইংরেজ দের সময়ের একটা পদ। ডাক মানে হলো – চিঠি পত্র লেনদেন , যেটা এখন আমরা Post নামে জানি। তো তখনকার সময়ে ঘোড়ায় করে এক ডাকঘর থেকে অন্য ডাকঘরে চিঠির আদান প্রদান হতো, সেই সমস্ত যাত্রাপথে একটা করে বাংলো থাকতো যেখানে উচ্চ পদস্থ অফিসারেরা রাত্রি যাপন করতেন। তো তারা যখন আসতেন দুর থেকে ঘোড়ার আওয়াজ পাওয়া মাত্রই রান্নার ঠাকুর মাংস রান্না চাপাতেন এবং তারা আসামাত্রই সেটি পরিবেশন করতেন। সেই থেকে এই রান্নার নাম ডাক বাংলো।

এই গেলো গল্পের কথা এবার ফিরে আসি ভোজনে, বেশ ভালোই খাওয়া দাওয়ার পর মন আমাদের একটু মিষ্টি মিষ্টি করে । চাটনি পাঁপড় চাইলে তার ব্যবস্থাও আছে আবার মিষ্টির মধ্যে রসমালাই, মিষ্টি দই ও আম দই এর ও ব্যবস্থা আছে। শেষ পাতে আইসক্রিম চাইলেও হাজির হবে নলেন গুড় কিংবা ডাব মালাই।

ঠিকানা টা একবার বুঝিয়ে দিই। Sec – V এর SDF স্টপেজে নেমে সোজা হেঁটে এসে ঢুকে পড়তে হবে PS Srijan Corporate Park এ। ঢুকে ডানদিকে তাকালেই চোখে পড়বে The Bhoj Company।

সকলকে জানাই শুভ নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

Leave a comment