কলকাতাবাসীর কাছে চা শুধু পানীয় নয়, আবেগের ও , অনেক কিছুর সাক্ষী থাকে এই এক কাপ চা। সকালে পাড়ার রক থেকে বিকেলে বাড়ি ফেরার আড্ডা, সন্ধ্যেয় মায়ের হাতের চায়ের পেয়ালা থেকে অফিসের ক্যান্টিনের বিস্বাদ চা — চা কলকাতার চাই-ই। ১৮৪৫ সালে ডক্টর ক্যাম্পবেল দার্জিলিঙে প্রথম চায়ের চাষ শুরু করেন এবং কালের প্রবাহে বিশ্বজুড়ে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

কলকাতায় চায়ের দোকানের অভাব নেই। বিভিন্ন বাজেটে বিভিন্ন ঘরানার চা। আজ আমরা বেছে নিয়েছি দেশপ্রিয় পার্কে খোলা ” Bubbling Kettle ” কে। সুদূর দার্জিলিঙের গোপালধারা টি এস্টেটের চা এসে পৌঁছায় এখানে। তারপর পরিমাণ মতো জল গরম করে থার্মোমিটারে মেপে পরিমাণ মতো চায়ের পাতা যোগ করে টাইমারে সময় দেখে বানানো হয় প্রতি কাপ চা।

এনারা একটি নতুন ব্যবস্থা করেছেন যাতে বাড়ি বসেই খুব সহজে এখানের দুধ চায়ের আমেজ উপভোগ করতে পারেন। এটি হলো Tea On Call। বাড়ি বসে ৪ কাপ বা ৬ কাপ অর্ডার করাই যায় , বেশ অনেকক্ষন গরমও থাকে।

দূধ চা সবাইয়েরই বেশ পছন্দের, সেই মতো এখানে পাবেন মুম্বাই কাটিং চা। কাঁচের গ্লাসে দিনের শুরু তে আলাদাই আনন্দ। কিন্তু যারা প্রকৃত চা প্রেমিক, তারা এই চা দেখলে কেমন যেন ক্ষেপে ওঠেন। তাদের মতে আসল চায়ের গন্ধ ও স্বাদ খোলে লিকার চায়ে। সেও কিন্তু যা খুশি লিকার হলে চলবে না। ফার্স্ট ফ্লাশ, সেকেন্ড ফ্লাশ, আর্ল গ্রে কতরকমই তার নাম ও প্রকার। কিন্তু এই ফ্লাশ ব্যাপারটা কি অনেকেই জানেন না, চলুন বলা যাক।
ফ্লাশ শব্দটির দ্বারা বোঝানো হয় চা উৎপাদনের সময় কে। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চ মাস অবধি যখন চা গাছে সদ্য পাতা ধরে তাকে বলা হয় ফার্স্ট ফ্লাশ। দুটি পাতা একটি কুঁড়ি হিসেবে একে তোলা হয়। স্বাদে গন্ধে হালকা ও নিদারুণ। এপ্রিল থেকে জুন — এই সময়ের যে চা পাতা সেটি হলো সেকেন্ড ফ্লাশ। একটু অকালপক্বতার জন্যে স্বাদেও একটু কড়া। কড়া স্বাদে এ এক অন্য বস্তু।


গলা ভেজানোর সাথে পেট ভরানোরও সুন্দর ব্যবস্থা আছে । আর্ল গ্রে চা কে সঙ্গে নিয়ে ইংলিশ ব্রেকফাস্ট হাজির। কি নেই তাতে, চিকেন সসেজ, বেকড বিনস, বেকন, পাউরুটি, সতে করা সবজি আর সানি সাইড আপ নিয়ে পুরো প্লাটার।




এছাড়াও মুম্বাই কাটিং চায়ের সাথে মিক্সড সস পাস্তা। পাস্তার সসে উত্তর ভারতীয় বাটার মশলার ছোয়া। এক অপূর্ব মেলবন্ধন সে।


শেষে কিমা স্যান্ডউইচ। সুন্দর স্বাদের পাশাপাশি আছে কিমার ছড়াছড়ি আর সতেজতা। সঙ্গে White Romance বা দার্জিলিং হোয়াইট টিও মন্দ লাগবে না


একটি গিটার ও রাখা থাকে। চাইলে একটু গান বাজনা ও হতে পারে।