Ahare Bangla – 2019, Biggest Food Festival of West Bengal

পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত খাদ্য মেলা ” আহারে বাংলা ২০১৯ ” সমাপ্ত । এবছর এই মেলার আয়োজন বসেছিল বিধাননগর মেলা গ্রাউন্ড , সেন্ট্রাল পার্কে । চলেছিল ২৪ শে নভেম্বর রাত ৯ টা পর্যন্ত। নানারকম খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে প্রথম দিনই পৌঁছে গেছিলাম সেখানে।


গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়লো মূল মঞ্চ, সেখানে বিকেল থেকেই নানারকম অনুষ্ঠানের আসর বসতো। তার বাম দিকেই ছিল Hall A, Hall B এবং Hall C ।  ডান দিকে Hall D এবং E। এছাড়াও ছিল ননভেজ ও ভেজ খাবারের স্টল, মিষ্টির স্টল এবং অর্গানিক সবজির স্টল।
এবারে আসা যাক খাওয়া দাওয়ার কথায় ।
প্রথমেই হামলা করলাম Hall E তে। ‘Oh Calcutta- Sigree’ এর স্টল থেকে নিলাম ‘ গোবিন্দভোগের ফিশ ফ্রাই ‘ । ২ পিস ৫০ গ্রাম ভেটকি ফিলেট এর ফিশ ফ্রাইয়ের দাম পড়লো ১২৫ টাকা । তবে এটি পুরোপুরি পয়সা-উসুল।


এরপর গেলাম Hall C তে পিঠে বিলাসী তে, বলা বাহুল্য এখানে ভেজ এবং নন ভেজ উভয় রকমেরই পিঠে এবং পাটিসাপটা পাওয়া যাচ্ছে। এখান থেকে নিলাম বেকড নলেন গুড়ের পাটিসাপটা। ৬০ টাকা দাম যথার্থ। মিষ্টির পরিমাণও একদম ঠিকঠাক।


এরপর চলে আসলাম Hall B এর মিত্র ক্যাফে তে। এনাদের কবিরাজি চেখে দেখার ইচ্ছে নিয়ে গিয়েও কিছু কারণবশত সেটি আর নিলাম না, তার পরিবর্তে নিলাম Crispy Chicken, দাম- ১৭০ টাকা। এটি ঠিকঠাক লাগলো, সস টা বেশিই ব্যবহার করে ফেলেছে যার জন্যে খুব ভালো লাগলো না।


এরপর ছোটোখাটো স্টল গুলোর দিকে যেতেই নজর টানলো Shawarma. Go Lebanese থেকে বেছে নিলাম Chicken Shawarma Wrap. দাম -১৪০ টাকা। বেশ ভালো লাগলো এটি।


এতো কিছু খাওয়ার পর চলে এলাম সিকদার জুস এ। এনাদের খ্যাতি হলো ফ্রুট জুস এবং মকটেল এ। এখান থেকে নিলাম আমার খুবই পছন্দের ‘Indian Fashion’ ।


আগেরবারের আহারে বাংলা তে একটা জাপানি স্ট্রিট ফুড খুব মন কেড়েছিল, এবারও সেটির সন্ধানেই গেছিলাম সে দুটির নাম হলো – কুশিয়াগে এবং কুশিকাৎসু। কিন্তু এবারে একেবারেই অখাদ্য লাগলো।


এরপরে Barbeque Nation থেকে নিলাম Crispy Corn. ৪৯ টাকায় পরিমাণ যথাযথ তবে আমার নুন একটু কম লেগেছে। এরপর মোমো দিয়ে আজকের খাদ্যাভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করলাম। The state Fisheries থেকে নিলাম ফিশ মোমো এবং WBCADC থেকে নিলাম চিকেন মোমো। বলা ভালো ফিশ মোমো টা যতটা ভালো ছিলো চিকেন মোমো টা ঠিক ততটাই খারাপ।

যাইহোক এই ছিলো প্রথম দিনের খাদ্যাভিযান। অনেক কিছুই খেয়ে দেখার ইচ্ছে থাকলেও পেটে আর জায়গা ছিলো না। চেষ্টা করলাম অন্য আরেকদিন গিয়ে বাকি খাবার গুলো খেয়ে দেখার।

দ্বিতীয় দিন

প্রথম দিনে সব খাবার চেখে দেখা হয়ে ওঠেনি তাই আর লোভ সামলাতে না পেরে দলবল নিয়ে বিকেল বিকেল পৌঁছে গেলাম। বিকেল বেলায় মন টা চা চা করছিলো, সেই জন্যে নিলাম ‘Kashmiri Kahwa Tea’ । ৩৫ টাকা দাম নিলেও সেভাবে মন জয় হলো না।

এরপর হামলা করলাম State Fisheries এ। এরা স্বল্প দামে নানারকম মাছের পদ পরিবেশন করে। সেখান থেকে নিলাম – ফিশ ফ্রাই ( ৫০), ফিশ বাটার ফ্রাই (৫০), ফিশ মোমো ( ৪ পিস ৪০ টাকা), ফিশ পাতুরি ( ৬০) এবং ডেভিল ক্র্যাব কারী (১৩০) । বলা বাহুল্য মোমো ছাড়া সব কটি পদেই ভেটকি মাছ ছিলো আর বেশ সুন্দর ভাবে তৈরি করেছিলো। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো ফিশ পাতুরি আর বাটার ফ্রাই টা। এতই ভালো ছিলো যে বেরোনোর আগে আরও একবার খেয়ে এলাম।

এরপরের গন্তব্যস্থল ছিল ‘ Oh Calcutta – Sigree ‘ । কাল এদের ফিশ ফ্রাই খেয়েই বুঝেছিলাম যে এরা কতটা ভালো মানের খাবার বানায়। আজ নিয়েছিলাম ৩ টে পদ
১. ভাপা মুরগি – ৪ পিসের দাম ১২৫ টাকা
২. পরোটা ও কুইল চাপ – দুটি পরোটা নিয়ে দাম ১৭৫ টাকা।
৩. নারকেল চিংড়ি ভাপা , ভাত ও ফিশ ফ্রাই কম্বো – দাম ২২৫ টাকা।

প্রত্যেকটি পদই মুখে লেগে থাকার মতো।

এরপর চলে এলাম পিঠেবিলাশি তে। গতকাল বেকড নলেনগুড় পাটিসাপটা মন জয় করেছিলো। আজ সেটা তো নিলামই সঙ্গে নিলাম ভেটকি মাছের পাটিসাপটা আর নলেন গুড়ের আইসক্রিম গোকুল পিঠে। দুটোরই দাম ১৬০। দুটোর ক্ষেত্রেই একটা কমন কথাই বলবো যতবার খাবেন ততবারই খেতে ইচ্ছে করবে।

ফেসবুকে আহারে বাংলার নামে WBCADC এর মেনু কার্ডের ছড়াছড়ি। কাল চিকেন মোমো খেয়েছিলাম ওখান থেকে খুবই বাজে খেতে। আজ অন্য রকম কিছু পদ ( যদি ভালো হয় এই আশায়) নেবো ভাবলেও যেটাই পছন্দ করছি বলে নেই। শেষমেষ কালো মুরগির চিকেন পকোড়া নিলাম। ১৫ টাকা পিস। এমন কিছু আহামরি খেতে নয়, হাড়ে ভর্তি।

এভাবেই শেষ হলো দুদিনের খাদ্যাভিযান। আমার মতে এবারের খাদ্য মেলায় একদম নতুন খাবার হিসেবে বিশেষ কিছু নেই সেই একই চিরাচরিত যে খাবার এর সাথে পরিচিত ঘুরে ফিরে সেগুলোই আছে। বরং এর আগের বছর এর থেকে অনেক ভালো ভালো নতুন পদ ছিলো।

Leave a comment