স্মরণে সত্যজিৎ এবং সাতদিন

ভারতীয় সিনেমা জগতে সত্যজিৎ রায় বাবুর স্থান সর্বোচ্চ সারিতে। বাংলা গান ,গল্প ,কবিতা, উপন্যাস, নাটক বলতে যেমন প্রথম ভাবনাতেই আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তেমনি সিনেমা বলতেই সত্যজিৎ বাবুর কথা মনে পরতে বাধ্য।
সত্যজিৎ বাবুকে স্মরণ করেই এবং ওনাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই রেস্তোরাঁ, নাম তার 7Days। সত্যজিৎ বাবুর সিনেমা বা ওনার লেখা বইতে প্রত্যেক পদে পদে খাবারের ব্যাপারটি রয়েছে। যেমন জয় বাবা ফেলুনাথ ভাবলেই মনে আসে বেনারসি থালি, সোনার কেল্লা হলে রাজস্থানী থালি কিংবা কৈলাসে কেলেঙ্কারি বা বোম্বাইয়ের বোম্বেটে শুনলে মাথায় আসে মারাঠি থালি। এ রকমই 7 দিনে সাতটি ভিন্ন থালি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে এই রেস্তোরাঁ। তবে শুধুমাত্র থালি নয় আরো নানা রকম উত্তর ভারতীয় খাবারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের GD ব্লকের এই রেস্তোরাঁয় সদলবলে গেছিলাম। দরজা দিয়ে ঢুকেই বাঁ দিকে চোখ পড়তে দেখলাম টিভিতে ‘অভিযান’ চলছে। সিনেমাটি দেখেই বুঝেছিলাম আজকের থালি –  পাঞ্জাবি থালি। ঢুকেই চোখে পড়বে অলোক মিত্রের তোলা সত্যজিৎ বাবুর একটি ছবি দুদিকে দুটি স্টুডিও লাইট। এক দিকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কর্নার তো অন্য দিকে উত্তম কুমার কর্নার। এছাড়াও রয়েছে স্কেচবুক, একটি ইয়াশিকা 8mm ফিল্ম ক্যামেরা এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা কিছু বই।

অরেঞ্জ মকটেলে গলা ভিজিয়ে খাওয়া-দাওয়া শুরু হলো।

শুরুতেই একে একে হাজির রেশমি পনির কাবাব, চিকেন-পুদিনা কাবাব এবং চিকেন বানজারা কাবাব।
মাঝারি সাইজের পনিরের কিউব গুলিকে মশলা মাখিয়ে ম্যারিনেট করে তন্দুরে গ্রিল করে পরিবেশন করা হয়।

চিকেন-পুদিনা কাবাবে চিকেন পিস গুলিতে পুদিনাপাতা বাটা, ধনেপাতা বাটা , মেথি পাতা বাটা, দই এবং অন্যান্য মশলা মাখিয়ে ম্যারিনেট করে রাখা হয় তারপরে তন্দুরে গ্রিল করে পরিবেশন করা হয়।

চিকেন বানজারা কাবাব টি একটু স্পাইসি ছিল। এই কাবাবের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রত্যেক কামড়েই জিরার সুগন্ধ টা পাওয়া যায়, এই ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম নেই।

প্রত্যেক টি কাবাবই এক প্লেটে ৮ পিস করে থাকে। কাবাব গুলি এতটাই নরম এবং সুস্বাদু যে দক্ষ হাতের ম্যারিনেশন ও রান্নার প্রমাণ পাওয়া যায়।

মেন কোর্সের অপেক্ষা করতে করতেই জিরা রাইস কে সঙ্গে নিয়ে হাজির চিকেন ঘি রোস্ট। এই চিকেনের পদটি আমি আগে কখনো খাইনি। এটি মূলত মাঙ্গালোরের একটি বিশেষ পদ। এটি একটু ঝাল ঝাল খেতে তবে তফাৎ একটাই জিভে ঠেকালে সঙ্গে সঙ্গে ঝাল লাগে না, খাওয়ার ১০-১২ সেকেন্ড পর থেকে ঝাল টা অনুভব হতে থাকে। বলা বাহুল্য এই পদটি এখানকার মালিক দেবজ্যোতি বাবু নিজেই রান্না করেন। এখানে এসে এই পদটি মিস করা মানে আগ্রা গিয়ে তাজমহল না দেখার সমান।

এর পরে এলো রুটি, বাটার নান, ডাল তড়কা আর চিকেন কাবুলি। সত্যি বলতে রুটির সঙ্গে ডাল আমার খুব একটা পছন্দ নয় তাই ডাল দেখে একটু কিন্তু কিন্তু করছিলাম, কিন্তু একবার টেস্ট করার জন্য মুখে নেওয়ার পরেই দু বাটি ডাল খেয়ে নিয়েছি, এতো সুন্দর এই রান্না।

অনেকগুলো মাঝারি সাইজের চিকেন পিসের ওপর গ্রেভি ও ক্রিম ছড়িয়ে তার ওপর টা ডিমের সাদা অংশ দিয়ে ঢেকে পরিবেশন করা হয়েছিলো। বাটার রুটির সঙ্গে খেতে বেশ দারুন লাগলো।

সবশেষে এলো সেই বহু প্রতীক্ষিত সেদিনের স্পেশাল পাঞ্জাবি থালি। থালি তে ছিলো ভাত, ডাল, কাড়ি, আলু পালক, কারারি ভিন্ডি, পাঁপড় ও এক রকম আচার। কেউ নন ভেজ থালি নিতে চাইলে সেটারও ব্যবস্থা আছে। এনাদের এই আচার টি থালি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে থাকে, যেখানের থালি সেই হিসেবে আচার দেওয়া হয়।

দুজনের খেতে আনুমানিক খরচ পড়ে ৫০০-৬০০ টাকা।

7 Days Menu, Reviews, Photos, Location and Info - Zomato

Leave a comment