যাত্রার শুরু হাওড়া স্টেশন থেকে। স্টেশন থেকে বেরিয়ে প্রথমে বাস তারপর অটোয় চেপে পৌঁছে ৪৫ মিনিটে পৌঁছে গেলাম লখনউ। কি ভাবছেন ! সকাল সকাল ভুলভাল বকছি?? একদমই নয়। সম্প্রতি কলকাতায় এসে হাজির হয়েছে খাঁটি লখনউ ঘরানার খাবার নিয়ে “Lucknowee”। আমরা কম বেশি সবাইই কলকাতা ঘরানার বিরিয়ানি বা কাবাব জাতীয় খাবার পছন্দ করি। এনাদের রান্না সম্পূর্ণই লখনউ ঘরানার আর হবে নাই বা কেনো এনাদের সমস্ত শেফ লখনউ এর।

কোথায় এই লখনউ ?
হাজরা ল কলেজের একদম উল্টো দিকেই এই রেস্তোরাঁ।



চলুন এবার খাওয়া যাক –
শুরুতেই গলা ভেজানোর জন্যে ছিলো Welcome Drinks. আমি ফ্রেশ লাইম সোডা নিলেও বন্ধুরা কেউ নিলো Virgin Mojito কেউ বা আবার Iced Tea।
খাওয়া স্টার্ট হলো সম্পূর্ণ অন্যরকম একটি স্টার্টার দিয়ে, নাম তার ক্রিসপি রুমালী রুটি। ক্রিসপি রুটির ওপর টমেটো, পিয়াজ, ধনেপাতা ও চিজ গ্রেট করে দেওয়া। বেশ অন্যরকম এবং সুন্দর খেতে।

এরপরেই এলো সেই বহু প্রতীক্ষিত পদ – ‘ তুন্ডে কাবাব ‘ সঙ্গে সঙ্গ দিতে উল্টা তাওয়া পরোটা। একদম মিহি মটন কিমা দিয়ে এই কাবাব বানানো, মুখে দিলেই গলে যায়। পরোটা টাও একদম নরম। বলা ভালো তুন্ডে কাবাব ‘ রোমিও জুলিয়েট এর মতো ‘ এই পরোটা কে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে।



এর পরে আবির্ভাব দুই ভেজ কাবাবের ‘ Amritsari Tikki’ আর ‘ Hara Bhara Kabab’। দুটোই খেতে বেশ ভালো


এরপর আবার ফিরে এলাম নন ভেজে। এলো ‘Murg Afgani Tandoor’, ‘Murg Nawabi’ & ‘Lasooni Tandoori Jhinga’। চিংড়িটা অসাধারণ বললেও কম বলা হবে। আফগানি তন্দুর আর মূর্গ নওয়াবি টা এতটাই নরম আর সুস্বাদু যে একবার মুখে দিয়েই মন টা আর একটার জন্যে অপেক্ষা করতে বাধ্য।



সুস্বাদু কাবাব পর্বের পর এরপর আমার অতি প্রিয় বিরিয়ানীর পালা। কলকাতা ঘরানার চিকেন ও মাটন বিরিয়ানির সঙ্গে ছিলো লখনউ ঘরানার মাটন বিরিয়ানি। বলা ভালো কলকাতায় বসে এর আগে নানান জায়গায় লখনউ ঘরানার বিরিয়ানি খেলেও তাতে কলকাতা বিরিয়ানির স্বাদ একটু হলেও পাওয়া যেতো। এক্ষেত্রে এক গ্রাস মুখে নেওয়ার পরই মনে চিন্তা আসতেই পারে আমি কি কলকাতায় বসে খাচ্ছি নাকি লখনউ তে। এই বিরিয়ানি তে আলু থাকেনা। তবে দুপিস মাটন থাকে।


আমাদের কলকাতা বিরিয়ানি একটু কম মশলাযুক্ত হয়। চাল টাও বেশ ঝুরঝুরে হয়। এনাদের বিরিয়ানিটি আমার একটু মশলাদার আর ঝালঝাল লাগলো। তবে এ ক্ষেত্রেও দু পিস মাটন দেওয়া হয়। ডিম নিতে চাইলে স্পেশাল বিরিয়ানি টা অর্ডার করতে হবে।
এই দুরকম বিরিয়ানির মধ্যে আমার লখনউ বিরিয়ানি টা বেষ্ট লাগলো।

বিরিয়ানি কে যোগ্য সঙ্গত দেওয়ার জন্যে ছিলো নাল্লি গোস্ত আর দম কা কিমা। মাটন কিমার সঙ্গে সেদ্ধ মটর মিশিয়ে ওপর থেকে একটু ধনেপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়েছিল। কিমা টা খেতে ভালো কিন্তু মটর এর পরিমাণ একটু বেশি হওয়ায় মুখে বেশিই লাগছিল।
আর নাল্লি গোস্ত এর কথা না বললেই নয়। যতটা সুস্বাদু গ্রেভি ততই সুস্বাদু মাটন পিসগুলো।


নবাবি খাওয়া দাওয়ার পর নবাবি ডেজার্ট না হলে একেবারেই জমে না। ফিরনি দিয়ে মিষ্টি মুখ শুরু। অনেক দিন পর এতো ভালো ফিরনি খেলাম এখনও মুখে লেগে রয়েছে। এরপরেই এলো বোম্বে ফালুদা সঙ্গে আইসক্রিম। এটির পরিবেশন টা দেখলেই অর্ধেক মন ভরে যায় আর মুখে দিলে পুরোটাই। আর একদম শেষ পাতে একদমই নতুন একটি পদ – ” আলু কা হালুয়া”। আমার মতো ঘি প্রেমী মানুষের কাছে এটা এক বাটি স্বর্গের প্রসাদের সমতুল্য। তবে যারা একেবারেই ঘি পছন্দ করেন না তারা ভুলেও এদিকে একদম নয়।




এবার আসা যাক কত খরচ হতে পারে ?
প্রত্যেক টা পদের দামই একদম সাধ্যের মধ্যেই। দাম অনুযায়ী খাবার একেবারে ভ্যালু ফর মানি। তবে দুজনের খাওয়ার খরচ পড়বে আনুমানিক ৮০০-৯০০ টাকার মধ্যে।
